হাঙ্গর পাড়ের মানুষের বোবাকান্না কেউ শুনে না।

হাঙ্গর পাড়ের মানুষের বোবাকান্না কেউ শুনে না।

(অনলাইন পত্রিকা ডেস্ক)

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অপরূপ ছোট একটি খালের নাম ‘হাঙ্গর’। বান্দরবানের ছোট-বড় বিভিন্ন ছরা থেকে পানি নেমে এসে পতিত হয় হাঙ্গর খালে। এই খালটি বান্দরবানের পাহাড়ি উপজেলা লামা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ডলু খাল ছুয়ে পতিত হয়েছে চট্টগ্রামের বিখ্যাত সাংগু নদীতে। লামা উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল, লোহাগাড়া – সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ঘনবসতিপূর্ণ শত শত গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এই খালের সাথে জড়িয়ে আছে এই অঞ্চলের মানুষের হাজারো সুখ- স্মৃতি। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ খালের স্বচ্ছ পানিতে মাছ ধরে সুখ খুঁজে বেড়াতো। খালে জেগে উঠা চরে জোছনা রাতে হাডুডু খেলে মনের দুঃখ গুছাতো। শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি তুলে ফসিল জমির সেচের কাজ সারতো। উজানের পাহাড় থেকে বাশ, কাঠ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতো।

কিন্তু খালের সাথে খাল পাড়ের বাসিন্দাদের সেই সব সুখ – স্মৃতি এখন অতীত। এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী, অবৈধ বালু খেকো মানুষের অত্যাচারে খালটি দু-পাড়ের মানুষের জন্য কান্নার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। হাঙ্গর খালের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করে চলছে ক্ষমতার অপব্যাবহারকারী বালু খেকো সিন্ডিকেট। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ড্রেজার মিশিন ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে বালু তোলার কারণে ভেঙ্গে পড়ছে খাল পাড়ের ফসিল জমি, ঘর-বাড়ি, মসজিদ মাদ্রাসা, দোকান-পাট। ভেঙ্গে পড়ার মুখে খালের উপর নির্মিত ব্রিজ, কালভার্ট।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জঙ্গল পদুয়ার বাচুর বাপের বাড়ি, পেঠান শাহ্ এর পুরাতন বাড়ি, উত্তর পদুয়ার ঘোনা পাড়ার বেশ কিছু বাড়ি- ঘর ইতিমধ্যে খালের ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। বালু উত্তোলন অতিসত্বর বন্ধ না হলে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া ও জঙ্গল পদুয়া গ্রাম, সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ছহির পাড়া গ্রামের শতাধিক বাড়ি ঘর, মসজিদ মাদ্রাসা খলের গর্বে বিলীন হয়ে যাবে।

এই অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় বহুবার খবর চাপানো হয়েছে। সর্বশেষ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার অনলাইন টিভি চ্যানেল সি- প্লাস টিভি তে স্ব চিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। হয়েছে এলাকায় ঝাড়ু মিছিল সহ নানা প্রতিবাদ। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে বারেবারে ধারনা দিয়েও কোন সুফল পাচ্ছে না নিরীহ খাল পাড়ের বাসিন্দারা। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না বালু খেকো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসন বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোন ব্যবস্থা নেয় না। প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশে লোকদেখানো বা নাম মাত্র ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসন জনরোষের থেকে বেছে থাকার কৌশল নিয়েছেন।

এমন অবস্থায় নিরীহ খাল পাড়ের বাসিন্দারা প্রশাসনের উপর আর আস্থা রাখতে পারছেন না। বালু ব্যবসায়ীরা পেশী শক্তি নির্ভর ও প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে মুখও খুলতে পারছেন না সাধারণ মানুষ । ফলে বোবাকান্না-ই হাঙ্গর খালের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের এখন নিত্য দিনের সঙ্গী।

আরও পড়ুন

Comments are closed.