মানবতার প্রতিদানে হাহাকার

অসীম চৌধুরীঃ মানবজাতির বিভিন্ন গুনাবলীর মাঝে মানবতা একটা বড় গুন বলে বিবেচিত। মানবতাই বড় ধর্ম। কিন্তু মানবতা দেখাতে গিয়ে যদি ঘরের ছেলে পর আর পরের ছেলে আপন হয় তখন মানবতা উল্টে গিয়ে নিজের পায়ে কুড়াল মারার মতো রুপ নেয়।

মায়ানমার থেকে বি°তাড়িত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আ°শ্রয় নিয়েছে গত দুই বছর ধরে। ওদের জন্য বাংলাদেশের মানুষ অনেক কিছুই ত্যাগ করেছে। ১৯৭১ সালের কষ্ট আর মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে এই দেশের মানুষ মায়ানমার সেনাবাহিনীর নি°র্যাতনের মুখে পা°লিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে দাড়িয়ে তাদের প্রতি সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এই মানবিকতা নিজের দেশের পরিবেশের জন্য অশনি সংকে°ত বয়ে আনছে। বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বাসস্থানের সংক°ট সমাধানে হাজার হাজার হেক্টর বন উজাড় করে দেয়া হচ্ছে উখিয়া ও টেকনাফে। হাজার হাজার আম বাগান বিলুপ্ত করা হলো। বন্য হাতি চলাচলের পথ থেকে শুরু অন্যান্য পশু পাখির আবাসস্থল ধ্বং°স করে জীব বৈচিত্র আজ হু°মকির মুখে। যে পরিমানে বনাঞ্চল নষ্ট হলো তা আগামী একশ বছরেও ফিরিয়ে আনা সম্ভবপর হবে না। রোহিঙ্গা এলাকায় স্থাপিত দশ হাজার নলকূপের কারনে উখিয়া টেকনাফে পানির স্তর দ্রুত নিচের দিকে নামছে৷ বিভিন্ন এনজিওর অপরিকল্পিত নলকূপ আর ডিপ টিউবওয়েলের জন্য ভবিষ্যতে স্থানীয় জনসাধরন পানি সমস্যায় পড়বে।

বৈশ্বিক খাদ্য সংক°ট প্রতিবেদন ২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য মতে বনভূমি, সুপেয় পানির উৎস ও কৃষিজমি যেভাবে ধ্বং°স হচ্ছে তেমনি স্থানীয়দের খাদ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। বর্তমানে স্থানীয়রা খাদ্য, পানি, বাসস্থানের সাথে সাথে কাজের ঝুঁ°কিতেও রয়েছে। রোহিঙ্গারা স্থানীয় দিনমজুরদের চেয়েও কম টাকায় কাজ করার ফলে স্থানীয়রা কাজ পাচ্ছে না। কাজের জন্য হাহাকার করতে থাকা জনসংখ্যার ২৮% স্থানীয় মানুষ তাদের সঞ্চয় ভে°ঙ্গে দিন পার করছে। সেই সাথে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অ°বনতি দেখা দিচ্ছে। এই অবস্থায় উখিয়া ও টেকনাফের মানুষের বিরাজ করছে চ°রম হাহাকার। কখন রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাবে আর নিজেদের মুক্তি মিলবে।

লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ফেরত পাঠানো নিশ্চিত না করে মাঝ থেকে শুধু মাত্র একলাখ রোহিঙ্গা নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া সমীচিন হচ্ছে না। আমাদের দেশের পদ্মা পাড়ের লাখো জনগন পূর্নবাসন না করে রোহিঙ্গাদের জন্য অবকাঠমোসহ আবাসভূমি তৈরী করে তাদেরকে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ করে দেয়াটা প্রশ্নবিদ্ধ। ঐ এক লাখ রোহিঙ্গা আগামী বছরেই তিনলাখ হয়ে দেশের জন্য মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাড়াবে।

দেশের কথা, দশের কথা, ভবিষ্যতের কথা ভেবে সরকারের উচিত জাতিসংঘ ও তার সহযোগী দেশগুলোকে আরো চাপ দেয়া যাতে রোহিঙ্গা প্র°ত্যাবর্সন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। নয়তো মানবতার প্রতিদানে স্থানীয় জনসাধারণ তথা দেশের মানুষের হাহাকার বেড়েই চলবে।

আরও পড়ুন

Comments are closed.