বিবেকের তালা তুমি খুলবে কার হাতে?

অসীম চৌধুরীঃ সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পন আর মিডিয়াকে বলা হয় সমাজের চোখ। সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা প্রীতিকর ও অপ্রীতিকর উভয় রকম খবরই পেয়ে থাকি। তবে আজ-কাল প্রীতিকর খবর খুব কমই পাওয়া যায়। ইদানীং অপ্রীতিকর, বিভ*ৎস খবরই বেশি পড়তে হয় পাঠকদের।

শুনতে খারাপ লাগলেও এটা সত্যি যে আমরা মনে হয় জাতি হিসেবে নৃ*শংসতার চ*রম পর্যায়ে চলে এসেছি। নির্মমতা আর নৃ*শংসতার সংজ্ঞা নিজেও ভয় পাবে বর্তমানের নৃ*শংস রুপ দেখে।
স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুয়েটের ছাত্র আবরার কে পি*টিয়ে হ*ত্যা, আরিফ রহমান দ্বীপকে চা*পাতি দিয়ে কু*পিয়ে হ*ত্য। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়  শাওন ভট্টাচার্যকে ছু*রিকাঘাত করে হ*ত্যা। সুনামগঞ্জের ছোট ছেলে তুহিন হাসান যার এখনও শ*ত্রু কে তা বুঝার বয়স হয়নি তাকে পিতার হাতে শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কে*টে নির্মম, নৃ*শংসভাবে হ*ত্যা। পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিৎকে প্রকাশ্যে কু*পিয়ে হ&ত্যা। চমেক’র ৫১ তম বিডিএস ছাত্র আবিদুর রহমান আবিদকে পি*টিয়ে হ*ত্যা। কুমিল্লার তনুকে নৃ*শংসভাবে ধ*র্ষন ও হ*ত্যা। সাগর রুনিকে জ*বাই করে হ*ত্যা। ফেনীর নুসরাত কে নিজ শিক্ষকের লেলিয়ে দেয়া বাহিনী কর্তৃক জীবন্ত পু*ড়িয়ে হ*ত্যা। ছেলেধরা সন্দেহে ছোট্ট সন্তানের মা রেনু বেগমকে অতি উৎসাহী জনগনের পি*টিয়ে হ*ত্যা। চট্টগ্রামের রেজাউল করিমকে গাড়ির হেলপার ধা*ক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পর ড্রাইভার রূপি জা*নোয়ার কর্তৃক ইচ্ছাকৃত গাড়ি চা*পা দিয়ে হ*ত্যা। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পায়েলকে অজ্ঞান অবস্থায় পানিতে ফেলে হ*ত্যা। ৬ মাসের শিশু থেকে শুরু করে ৭০ উর্ধ্বে মহিলা ধ*র্ষনের মতো খবর প্রায়শই পাওয়া যায় সংবাদপত্রে।

এইভাবে প্রতিদিন হাজারো গু*ম, খু*ন, ধ*র্ষন, নি&র্যাতনের ঘটনা মানুষ হিসেবে আমাদের পরিচিতিটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আসলেই আমাদের ‘মানুষ’ বলা কি সমীচিন?

এর সমাধান কি? নিত্য নতুন নৃ*শংস ঘটনার উদ্ভাবন। কিছু ক্ষেত্রে অপ*রাধীকে ধরা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। কিছু ক্ষেত্রে অপ*রাধীকে ধরা হলেও মা*মলা হয় না অদৃশ্য শক্তির কারনে। দেশে আইন আছে, আইনের প্রয়োগও আছে মানলাম, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়াটা এতো দীর্ঘ যে মানুষের আয়ু তার থেকে কম এখন। ছেলে হ*ত্যার, মেয়ে নির্যা*তনের বিচার তার মা বাবা দেখে যাওয়ার সৌভাগ্য হওয়াটায় এখন ভাগ্যের ব্যাপার। মেয়ের ধ*র্ষের বিচার না পেয়ে বাবা মেয়েকে রেল লাইনে আত্ন&হত্যা করতে হয়! কিন্তু এই দুরাবস্থা কেনো?

দিন যতো যায় মানুষের আয়ু ততো কমে, ঠিক তেমনি আজকাল দেখা যায় একের পর এক আপিল করতে করতে নিম্ন আদালতের সাজার রায় উচ্চ আদালতে কমে খালাসে পরিনত হয়। আর এই জন্য অপ*রাধীরা অপ*রাধ করার আগে ভয়টা পাচ্ছে না। তারা জানে ধরা পড়লেও সাজা হতে হতে সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত জীবনকাল সে শান্তিতে পার করে যেতে পারবে। অপ*রাধ সংঘটিত হওয়ার পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপ&রাধী যতোটা বিদুৎ গতিতে ধরা পড়ে বিচারটা তার চেয়েও ধীর গতিতে আগায়। আর সোস্যাল মিডিয়া প্রিন্ট মিডিয়ার দৃষ্টি যখন অন্যদিকে ঘুরে যায় তখন “বিচারের বানী নিভৃতে কান্দে”।
একে অন্যেকে ফাঁ&সাতে গিয়ে, প্রতি&শোধ নিতে গিয়ে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে মনুষ্যত্ববোধ, মমতাবোধ ভূলে আজ নির্ম*মতায় মেতে উঠেছে মানুষ । বড়দের প্রতি*শোধের নিশানা হয়ে যাচ্ছে ছোটরা। এর প্রতিকার কোথায়? অপ*রাধীদের দৃষ্টা*ন্তমূলক যথোপযুক্ত শাস্তি পাচ্ছেনা বলেই সমাজে সুষ্ঠ বিচারের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকছে না।

এরপর রইলো প্রভাবশালী নেতা বা মানুষ যারা সমাজের বিচার প্রক্রিয়ায় এতোটায় প্রভাব বিস্তার করে যে তাদের প্রভাবে সুষ্ঠ বিচারের অভাবটা চিরকাল থেকেই যায়। যতদিন এই প্রভাব মুক্ত না করে সুনির্দিষ্ট প্রমান থাকা মামলাগুলো দ্রুত বিচার আইনে সম্পন্ন না হবে ততদিন মানুষের মাঝে আইনি শাসন ব্যবস্থার উপর আস্থা টিকিয়ে রাখা দায় হবে।

বিচার প্রক্রিয়ার এই শামুক গতি আর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় জন্য আজকের এই নৈতিক ও সামাজিক অব*ক্ষয়। মনুষ্যত্ব, বিবেকবেধ ভূলে যাওয়া থেকে আমাদের জাগ্রত করবে কে? কে খুলবে বিবেকের তালা?

লেখকঃ সমাজ কর্মী। 

 

বিঃদ্রঃ ফেইসবুক নীতিমালা রক্ষার্থে কিছু শব্দ ব্লক করা হয়েছে ঐ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আরও পড়ুন

Comments are closed.