দাবি আদায়ে ১৩ই নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিলেন শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সভা সমাবেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেতন বৈষম্য নিয়ে তাদের দাবি দাওয়া পূরণ না হওয়ার কথা বলে আসছেন। ২০১৭ সালে বিভিন্ন দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে দেশের সকল সহকারি শিক্ষক আম°রণ অন°শন করেছিলেন। তৎকালীন ও পরবর্তী সময়কার বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন সে সময়। পরে নির্বাচনের আগে মুঠোফোনে ভয়েস মেসেজ ও নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভূক্ত করা হয় বেতন বৈষম্য দূর করার কথা। অনেক দিন হয়ে গেলেও বিভিন্ন সময়ে বেতন ভাতার পরিপত্র জারি হয় নি।হয়েছে শুধু আশ্বাসের বাণী।

এদিকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দাবী আদায় না হওয়ায় ক্ষো°ভ বাড়তে থাকে শিক্ষকদের মাঝে। তাদের দাবি একই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেন বেতনে এত বৈষম্য? তাদের দাবিতে বিভিন্ন স্তরের মানুষও সহমত পোষণ করেছেন। তাই সম্প্রতি সময়ে গঠন করা হয় ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’।  এতে আনিছুর রহমানকে আহ্বায়ক, মোঃ শামছুদ্দীন মাসুদকে সদস্য সচিব ও আনোয়ারুল হক তোতাকে প্রধান উপদেষ্টা হয়। তাদের নেতৃত্বে আয়োজিত হয় গতকাল ২৩ অক্টোবরের বিশাল মহাস°মাবেশ।
সমাবেশে যোগদেন দেশের হাজার হাজার শিক্ষক। কর্মসূচিতে তারা ১০তম প্রধানশিক্ষক ও ১১তম সহকারি শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ও সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ বাতিলের দাবি জানান।

সকাল থেকেই পূর্বঘোষিত কেন্দ্রীয় শহিদমিনারে জড়ো হয় শিক্ষকবৃন্দ। কিন্তু পুলিশের বাঁ°ধায় তারা সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে তারা দোয়েল চত্বরে জমায়েত হয়ে আ°ন্দোলন করেন ও নতুন ক°র্মসূচির ঘোষণা দেন।

ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান বলেন- যদি ১৩ নভেম্বরের মধ্যে কোন সুরহা না হয় তাহলে সমাপনী ও বার্ষিক পরীক্ষা ব°র্জন করা হবে। এতে আরো বক্তব্য রাখেন-আনোয়ারুল হক তোতা, শামছুদ্দীন মাসুদসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। শিক্ষকরা নতুন ঘোষিত ক°র্মসূচিকে স্বাগত জানান। পরে শহিদ মিনারে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ তাদের ধা°ওয়া ও লা°ঠিচার্জ করে এসময় প্রায় ৩০ শিক্ষক আ°হত হয়। গুরুতর আ°হত ৪ জনকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে পুলিশ শিক্ষকদের ভিখারি বলে গালি দেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে হীন মানসিকতার মানুষ ও ঘু°ষখোর বলে আখ্যা দেন। শিক্ষকরা বলেন, “তোমাদের পুলিশ বানিয়েছি আমরা। মেট্রিক পাশের চাকরি আর ঘু°ষখেয়ে বাহাদুরি করো”?

কিছু শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এটা যৌক্তিক দাবি, এটা মানা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

আরও পড়ুন

Comments are closed.